বন্ধুত্বের এক দশক (শুভ জন্মদিন নোশু)

সাল ২০০৮। সদ্য নার্সারি পাশ করেছি। আহ্লাদে আটখানা। জীবনে প্রথম কোন শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ছিলাম ৫ বছরের। কিছুই বুঝতাম না। ছাত্র হিসেবে আমি ভালো না বিধায় শেরে বাংলায় চান্স হয়নি। গণভবনে হয়েছে তাও আবার অপেক্ষামান তালিকায়। কি করার? আমার কাছের বন্ধু সিফাতের তখন গণভবনে চান্স পেয়ে তার ভর্তি সম্পন্ন। ১ সপ্তাহ পর আবার ভর্তির জন্য তালিকা প্রকাশ করলে আমার ভর্তি হওয়ার সুযোগ আসে। সেবার যেদিন প্রথম বিদ্যালয়ের ক্লাসে প্রবেশ করলাম দেখলাম, মাঝখানের সারির সিফাত প্রথম বেঞ্চে বসে আসে। যথাসম্ভব পাশে ছিল শৈশব আর শিবলী। তখন তো আর জানতাম না যে ওরা কতটা ভালো মনের অধিকারী। ১ম শ্রেনি পর্যন্ত শৈশব, শিবলীর সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি সকলের সাথে। শৈশব হয়ে ওঠে সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

 

শৈশবের গুণের কথা কিরুপ বর্ণনা করিব? তাহার যেরুপ কেশ (ওর চুলগুলো অনেক সুন্দর),  সেরুপ হাসি। তাহার মেধা অতুলনীয়। কথা-বার্তায়, চালচলনে, আচার-আচরণে সে অনন্য। যদিও সকলের সাথে মেশা তার মনঃপুত নয় তবুও বন্ধুদের সহিত সে সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন উদীয়মান ছেলে। সদা নিজের মনের মত সকল কার্য করে সে। সকলে তাকে খুব স্নেহ করে। শৈশবে সকলে আজন্ম শৈশব খুঁজে পায়।

শৈশবে আজন্ম শৈশব লেগে থাকুক

আজকে তাহার জন্মদিন। আমরা সকলে যাহারা তাহার সঙ্গী, সকলে তাহাকে ভালোবাসার সহিত জন্মদিনের শুভকামনা জানাই।

শুভ জন্মদিন শৈশব

তাহার সহিত আমার বেশি দিনের পরিচয় নয়। তবে অল্প অল্প করিয়া তাহাকে আমি কিছুদূর পর্যন্ত জানিতে পারিলাম। বাল্যকালে (যদিও এখনো বালকের মতই আমরা) যখন বিদ্যালয়ে ভ্যানে করিয়া যাইতাম তখন তাহার সহিত আরো গভীর সাক্ষাত। তাহার ২ ভ্রাতা তো অচিন্ত্য বিনয়ী। আমরা সর্বদাই সকলে হাসিখুশি থেকে দিন পার করতাম। যদিও তাহাদের সাথে আমার পরিচয় স্বল্পমাত্র তবুও আমি নির্দ্বিধায় বলিতে পারি, তাহাদের মত ভ্রাতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর শৈশব তাহার দুই ভ্রাতার সমস্ত গুণ সঙ্গে করিয়া বোধহয় জন্ম হইয়াছে। আমার শৈশবের নিকট একখানা প্রশ্নঃ

কোন ভ্রাতাকে তাহার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?

শুরুতেই বলিয়াছি, আমি পড়াশোনায় ততটা ভালো নয়। সে তুলনায় শৈশব আমার হতে অধিক ক্ষমতাবান। তাহার মস্তিষ্ক যে তরবারির ন্যায় ধারালো, সূচের ন্যায় সূক্ষ্ম। অল্প পড়াতেই তাহার সমস্তটা বোধে এসে যেত। পিএসসি, জেএসসি-তে স্বর্ণের এ+-এর অধিকারী সে। সকলে পরীক্ষার পূর্বে তাহার কৌতুক করত। কিন্তু ফলাফলের দিন সে তাহার মোক্ষম জবাব দিয়ে দেয়। আশা করি এস.এস.সি-তেও এই সাফল্য অব্যাহত থাকবে।

ভাই, আমার জন্য দোয়া করিস।

তাহাকে আমি সর্বদা উল্লাসে থাকতে দেখেছি। সকলের সাথে আনন্দ-উল্লাসে কাটে তাহার দিন। তাহার নিকট সর্বদা নতুন নতুন চিন্তা প্রত্যক্ষ করা যায়। সে হয়ত নতুনত্বকে নিজের পরমসঙ্গী করে নিয়েছে, সৃজনশীলতায় ভরপূর একজন সুদর্শন বালক। তাহার হাসি আমার মনে ধরেছে। কি সুন্দর তাহার হাসি। নিচের ছবিটা দেখে নিজেই পরখ করে নিনঃ

তবে তাহার নাকি অহংবোধটা একটুকু বেশি। সে স্বয়ং-ই বলেছেন এ কথা। কিন্তু আমার চক্ষে তাহা এতটুকুও ধরা পড়িল না। কি জানি, মিথ্যা বলিল কি না?

একটা দিনের কথা বর্ণনা করে তাহার বর্ণনা সমাপ্ত করি। যদিও তাহার বর্ণনা করিবার মত আমার এই ক্ষুদ্র ব্লগখানায় স্থান নেই। তবুও সমাপ্ত তো করিতেই হবে।

দিনটা ছিল ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বিজ্ঞান মেলার দিনে। আমাদের পূর্বপরিকল্পনামাফিক আমরা সে মেলাতে উপস্থিত হই। প্রথম হতেই তাহার বিরাট আগ্রহ ছিল যে, সেখানে উপস্থিত থাকিবেন আয়মান সাদিক (প্রতিষ্ঠাতা, ১০ মিনিট স্কুল)। তাহার আগ্রহের যেন কমতি নেই। যখন সময় হল আয়মান ভাইয়ের উপস্থিত হবার, হয়ত শৈশবই সর্বপ্রথম যে আয়মান সাদিককে প্রত্যক্ষ করে। দেখা মাত্রই তাহার কিরুপ হাসি!!! একটি ছবি উঠানো উচিত ছিল। আমার কাছে মনে হচ্ছিল আয়ামান সাদিকের হাসি আর শৈশবের হাসির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যখন আয়মান সাদিক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য মঞ্চে উঠলেন, শৈশবও তাহার মোবাইল খানা সহিত প্রস্তুত। ছবি তুলিবেন, ভিডিও করিবেন। তাহার যা কি আনন্দ হয়েছিল সেদিন!!! এক অদেখা আনন্দ। তাহার আনন্দ আরো প্রশস্ত হয় যখন সে আয়মান সাদিকের সহিত একখানা সেলফি তুলিয়াছিলেন। ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় সে আনন্দের কথা। এমন আনন্দ যেন তাহার সারা জীবনকে আচ্ছাদিত করে রাখে। শুভ জন্মদিন নোশু!!!

এ কামনায়,

বিপুল এইচএফ 🙂

বিশেষ কৃতজ্ঞতায়ঃ মুশফিকা ইফফাত ইমাম ইনিতা

ভিডিও-টা তোর জন্য। দেখে নিবি।

 

 

শেয়ার করুন!

Comment Below

comments